ইসলামে পর্দা- ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

ভূমিকা

সকল প্রশংসা আলাহর জন্য। মহানবী হযরত মুহম্মদ সালালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অসংখ্য দরুদ ও সালাম ।

সম্ভবত সকল সচেতন মুসলিমই অত্যন্ত বেদনার সাথে লক্ষ্য করছেন যে, ইদানিং মুসলিম মেয়েদের মধ্যে লজ্জাহীনতা ও পর্দাহীনতা বেড়ে চলেছে। আমাদের মনে হয় যে, অধিকাংশ মহিলাই নিজেদের লজ্জা ও শালীনতা রক্ষা করে চলতে ভালবাসেন। অধিকাংশ মুসলিম মহিলা তাঁদের জীবনে ইসলামের বিধিবিধান পালন করে আল্লাহর রহমত লাভে আন্তরিকভাবেই আগ্রহী বলেই আমরা বিশ্বাস করি । সম্ভবত: ইচছা করে কেউই আল্লাহর নির্দেশের বিরােধিতা করতে চান না । সম্ভবত: পর্দাহীনতার কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশ না জানা ।

এই পুস্তিকাটিতে পদার ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (%)-এর নির্দেশাবলী পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলােকে আলােচনা করা হয়েছে। শেষে পদা সম্মন্ধে জাপানী নওমুসলিম বােন খাওলা নিকীতার আকর্ষণীয় আলােচনাটির বাংলা অনুবাদ সংযােজিত হলাে ।

মানবীয় কাজে ভুলভ্রান্তি থাকবেই। বিশেষ করে অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে এই বইটির গ্রন্থনা ও সম্পাদনার কাজ করতে হল । এতে ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেল। সহৃদয় পাঠকের প্রতি অনুরােধ রইল, আপনার দৃষ্টিতে বইটির লেখায়, বানানে, তথ্যে বা গ্রন্থনায় কোন ভুল ধরা পড়লে অনুগ্রহ করে তা লেখককে জানাবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার তৈফিক দান করুন । আমিন।

সূচীপত্র

  • ইসলামে পর্দা ও তার গুরুত্ব
  • প্রথমত: পােষাকের শালীনতা
  1. মেয়েদের পােষাক
  2. ইসলামে মেয়েদের পােষাকের মূলনীতি
    • প্রথম মূলনীতি: সম্পূর্ণ শরীর আবৃত করবে
    • দ্বিতীয় মূলনীতি: পােশাক ঢিলেঢালা ও স্বাভাবিক কাপড়ের হবে
    • তৃতীয় মূলনীতি: অমুসলিমদের অনুকরণ নিষিদ্ধ
    • চতুর্থ মূলনীতি: মহিলারা পুরুষদের পােষাক পরবেন না
  • দ্বিতীয়ত: বহিরাগমণ ও মেলামেশার শালীনতা
  1. মহিলারা সুগন্ধ মেখে হয়ে বাইরে যাবেন না
  2. নারী-পুরুষের একত্র হওয়া বা ভ্রমণ
  • নারী সমাজের প্রতি পুরুষদের দায়িত্ব
  • একজন জাপানী মহিলার দৃষ্টিতে পর্দা
    • আমার ইসলাম
    • আমার পর্দা

ইসলামে পর্দা ও তার গুরুত্ব।

পর্দা বলতে কি বােঝায় এবং পর্দার গুরুত্ব কি তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয় । পর্দা বলতে অনেকে অবরােধ বােঝেন। তাঁরা ভাবেন যে, পর্দা করার অর্থ হলাে, মুসলিম মহিলা নিজেকে গৃহের মধ্যে আটকে রাখবেন, কোন প্রয়ােজনে তিনি বাইরে বেরােতে পারবেন না, পরিবারের বা সমাজের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না । অপরদিকে কেউ কেউ মনে করেন যে, পর্দা নিজের কাছে বা নিজের মনে, পর্দার জন্য বিশেষ কোন বিধান বা বিশেষ কোন পােষাক নেই। এ বিষয়ে আলেম বা প্রচারকদের মতামতকে তাঁরা ধর্মান্ধতা বা বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন। কেউ বা মনে করেন যে, পর্দা করা ভাল, তবে বেপর্দা চলাফেরা কোন পাপ বা অপরাধ নয় বা কঠিক কোন অপরাধ নয় ।

এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও রাসূলুলাহ (সা)-এর শিক্ষার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, পর্দা ইসলামে ব্যপক অর্থ বহন করে । পবিত্র সামাজিক পরিবেশে সুন্দর আন্তরিক হে-মমতা-ভালবাসারূৰ্ণ পরিবার গঠনে ইসলামের বিভিন্ন বিধানাবলী সমষ্টিকেই মূলত এককথায় “পর্দা-ব্যবস্থা বলা হয় । এর বিভিন্ন দিক রয়েছে, যেমন:

  1. সমাজে অশ্লীলতার প্রসার ঘটতে পারে এরূপ সকল কথা বা কর্ম থেকে বিরত থাকা ।
  2. অশীলতার প্রচার বা প্রসার মূলক কাজে লিপ্তদেকে শাস্তি প্রদান।
  3. সন্তানদেরকে পবিত্রতা ও সততার উপর প্রতিপালন করা এবং অশীলতার প্ররােচক বা অহেতুক সুড়সুড়ি মূলক সকল কর্ম, কথা বা দৃশ্য থেকে তাদেরকে দূরে রাখা।
  4.  কারাে আবাসগৃহে বা বাড়ীতে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি গ্রহণের ব্যবস্থা এবং বিনা অনুমতিতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা ।।
  5. নারী ও পুরুষের শালীনতা পূর্ণ পােষাক পরিধান করা ।
  6. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করা ।
  7. সঠিক সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েদেরকে বিবাহ দেওয়া।
  8. দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বস্ততা ও আন্তরিকতা বজায় রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।

এ সকল বিষয়ে পবিত্র কুরআনে এবং হাদীস শরীফে বিস্তারিত আলােচনা রয়েছে। বিশেষ করে কুরআন করীমের সূরা নূর-এ পর্দার বিষয়গুলি আলােচিত

সম্মানিত পাঠক, আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাকালেও বিষয়টি আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারি। আমাদের দেশের অবক্ষয়িত সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবােধের মাঝেও আমরা দেখতে পাই যে, যে সকল মেয়ে পর্দার মধ্যে বেড়ে উঠেন সাধারণত: তাঁরা মাস্তানদের অত্যাচার, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ ইত্যাদি। অত্যাচার থেকে বেঁচে থাকেন। সাধারণত: সবচেয়ে কঠিন হৃদয় মাস্তানও কোন পর্দানিশীন মেয়েকে উত্তক্ত্য করতে দ্বিধা করে। তার কঠিন হৃদয়ের এক নিভৃতকোনে পর্দানিশীন মেয়েদের প্রতি একটুখানি সম্রমবােধ থাকে।

কুরআন করীমে আল্লাহ বলেছেন:

يا أيها النبي قل لأزواجك وبناتي ونساء المؤمنين يتمنين عليهن من جلابيبهن كل أذنى أن يعرفن فلا يؤذين وكان الله غفورا رحيما”

“হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীগণ, কণ্যাগণ ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছুঅংশ তাদের উপর টেনে দেয়, এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে উতক্ত করা হবে না । আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময় ।“ (সূরা আহযাব: ৫৯ আয়াত)

পর্দার মানসিক ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে বােন খাওলা নিকীতার প্রবন্ধে আমরা আরাে কিছু জানতে পারব। এখন আমরা মহিলাদের পােষাকের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশাবলী আলােচনা করব । মেয়েদের পােষাক

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন কারীমে মহিলাদেরকে পর্দা করতে এবং গৃহে অবস্থান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পর্দাহীনতা, সৌন্দর্য প্রদর্শন এবং পুরুষের সাথে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর কোমল ও আকর্ষণীয় করতে নিষেধ করেছেন, যেন তারা সকল অশান্তি, অকল্যাণ ও ফিতনার কারণসমূহ থেকে দুরে থাকতে পারেন। আল্লাহ বলেছেন ঃ

“হে নবী পত্নীগণ, তােমরা অন্যান্য নারীদের মত নও! যদি তােমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পর পুরুষের সাথে কোমল ও আকষর্ণীয় কণ্ঠে কথা বলবে না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হতে পারে । বরং তােমরা স্বাভাবিক ও ন্যায়সঙ্গত কথা বলবে । আর তােমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে, জাহেলী যুগের মত নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করবে না । তােমরা সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আলাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে।” (সূরা আহযাব ৩২-৩৩ আয়াত)।

এই আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ মহানবীর স্ত্রীদেরকে যারা মমিনদের মাতৃতুল্য ছিলেন এবং নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম ও পবিত্রতম ছিলেন তাঁদেরকে পুরুষদের সাথে কথা । বলার সময় কষ্ঠস্বর কোমল ও আকর্ষনীয় করতে নিষেধ করছেন; কারণ এর ফলে যার অন্তরে অশ্লীলতার বা ব্যভিচারের ব্যাধি রয়েছে সে হয়ত ভেবে বসবে যে তাঁরা তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছেন। উপরন্তু তাঁদেরকে গৃহে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বর্বর যুগের সৌন্দর্য প্রদর্শন থেকে নিষেধ করেছেন। বর্বর যুগের সৌন্দর্য প্রদর্শনের অর্থ হলাে মাথা, মুখ, ঘাড়, গলা, বুক, হাত,পা ইত্যাদিকে অনাবৃত রাখা, যেন মানুষ তা দেখতে পায়। এসব অঙ্গ উন্মুক্ত রাখাতে পুরুষদের দৃষ্টিতে নারীর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে এবং তাদের মন ধাবিত হয় ।

মুমিনদের মাতা রাসূলুলাহ (সা)-এর স্ত্রীগণের অতুলনীয় ঈমান, পবিত্রতা, সততা ও মুমিনদের মনে তাদের প্রতি গভীর ভক্তি শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদেরকে এসকল কর্ম থেকে নিষেধ করেছেন। তাহলে অন্যান্য নারীদের এ সকল কর্ম থেকে দুরে থাকা কত প্রয়ােজন তা সহজেই অনুমেয় । কাজেই আল্লাহর এ নির্দেশ যে সকল নারীর প্রতি সমানভাবে প্রযােজ্য তা আমরা সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারি ।

উপরন্তু আল্লাহ এই আয়াতে বলেছেন “তােমরা সালাত (নামায) কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে।” পদার নির্দেশের ন্যায় এসকল নির্দেশও নবীপতিগণ এবং অন্যান্য সকল নারীর প্রতি সমানভাবে প্রযােজ্য।

ইসলামে মেয়েদের পােষাকের মূলনীতি

প্রথম মূলনীতি: সম্পূর্ণ শরীর আবৃত করবে

    মুসলিম নারীর সামনে মুসলিম নারীর নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত আবৃত করা ফরয। পুরুষদের ক্ষেত্রে মুসলিম নারীর পােষাকের তিনটি পর্যায় রয়েছে:

প্রথম পর্যায়: স্বামীর সামনে স্ত্রীর পােষাক । স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন পর্দা নেই, নেই কোন পােষাকের বিধান। স্বামী স্ত্রীর পােষাক আর স্ত্রী স্বামীর পােষাক । আল্লাহকুরআন মাজীদে বলেছেন:

“هن لباس لكم وأنتم لباس

“তারা (তােমাদের স্ত্রীরা) তােমাদের পােষাক এবং তােমরা তাদের পােষাক।“ (সূরা বাকারা: ১৮৭ আয়াত)

দ্বিতীয় পর্যায়ঃ রক্ত সম্পর্কের আপন অন্নীয় স্বজনের সামনে। নিকটতম ীয় স্বজন যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে নিষিদ্ধ তাদের সামনে মুসলিম রমণী নিজের শরীর আবৃত করে থাকবেন, তবে মুখ, মাথা, গলা, বাজু, পা অনাবৃত রেখে তাদের সামনে যেতে পারেন ।

তৃতীয় পর্যায় অন্যান্য পুরুষদের সামনে। নিকটতম অীয়, অর্থাৎ পিতা, শ্বশুর, সন্তান, আপন ভাই, আপন চাচা, আপন মামা, আপন ভাতিজা, আপন ভাগনা ছাড়া বাকী সকল আত্মীয় ও অনাত্মীয় পুরুষের সামনে মেয়েরা তাদের শরীর পুরােপুরি আবৃত করে রাখবেন। তাদের সামনে নিজেকে আবৃত রাখা মুসলিম নারীর উপর ফরজ করেছেন তার প্রতিপালক মহান আলাহ। | কুরআন করীমে আল্লাহ বলেছেনঃ

“হে রাসূল, আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, এর ফলে তারা অধিকতর পবিত্র থাকতে পারবে । তারা যা করে আল্লাহ তা জানেন । আর আপনি মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে । স্বভাবত:ই যা বেরিয়ে থাকে তা ছাড়া তাদের কোন অলংকার বা সৌন্দর্য যেন তারা প্রকাশ না করে। তারা

যেন তাদের মাথার কাপড় দিয়ে গলা- কান-বুক আবৃত করে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, তাদের দাসী, যৌনকামনা রহিত অধীনস্থ নিকট পুরুষ এবং যৌনজ্ঞানহীন ছােট বালক ব্যতীত অন্য কারাে কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য বা অলংকার প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে । হে মুমিনগণ, তােমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, তাহলে তােমরা সফলতা অর্জন করতে পারবে ।” (সূরা নূর ৩০-৩১ আয়াত)

কুরআন করীমের এই বরকতময় আয়াত দুইটিতে আল্লাহ বিশ্বাসী নারী ও পুরুষদেরকে সততা, পবিত্রতা ও সফলতার পথের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথমত: নাবী-পুরুষ নির্বিশেষে তাদের সবাইকে দৃষ্টি সংযমের নির্দেশ দিয়েছেন। সকল মুমিন। নারী-পুরুষের উচিৎ সর্বদা নিজ দৃষ্টিকে সংযত করা, বিশেষ করে যে সকল দৃশ্য মনের মধ্যে পাপবােধ বা অসংযমের অনুভুতি জাগিয়ে তােলে তা থেকে অবশ্যই নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে হবে। পবিত্র মনের পবিত্র জীবনের এটি হলাে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাথেয় । আল্লাহ আমাদের সবাইকে দৃষ্টি সংযমের তাওফীক দিন।।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ সবাইকে লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে এবং পবিত্র জীবন। যাপন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আমাদের গােপন-প্রকাশ্য সবকিছুই জানেন; যেন আমরা গােপন-প্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় সৎ ও পবিত্র থাকি ।

সৎ ও পবিত্র জীবনের অন্যতম মাধ্যম হলাে পর্দা; তাই উপরের আয়াতদ্বয়ে। আল্লাহ বিশেষভাবে নারীদের পােষাক ও পর্দার বিধান দান করেছেন। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, মেয়েরা তাদের ওড়না বা মাথার কাপড় এমনভাবে পরিধান করবে, যেন তা ভালভাবে বুক, গলা ও কান ঢেকে রাখে। আর তারা যেন “স্বভাবত:ই যা বেরিয়ে থাকে তা ছাড়া তাদের কোন সৌন্দর্য প্রকাশ না করে । | “স্বভাবতঃই বেরিয়ে থাকে বলতে সাধারণত: পােষাক বােঝান হয়। কোন কোন মুফাসসির ও ইমাম বলেছেন যে, মুখমণ্ডল ও কজি পর্যন্ত দু হাত “স্বভাবতই বেরিয়ে থাকা অঙ্গ। তাঁর বলেন, যদি কোন মহিলার মুখে কোন অলঙ্কার বা প্রসাধন না থাকে তাহলে তিনি তার মুখ ও হাত খুলে রাখতে পারবেন, তবে তা ঢেকে রাখা উত্তম। ইমাম আবু হানীফা (রাহ), ইমাম তাবারী (রাহ) প্রমুখ ইমাম এই মত পােষণ করতেন। তাঁদের মতে মুখ ও কজি পর্যন্ত হাত অনাবৃত রাখা স্বাভাবিক অবস্থায় জায়েজ।

ও একজন জাপানী মহিলার দৃষ্টিতে পর্দা ইমাম শাফেয়ী, আহমদ ইবনে হাম্বল ও অন্যান্য ইমামের মতে শরীরের অন্যান্য অংশের ন্যায় মুখ ঢেকে রাখাও ফরজ। ফেতনা বা সামাজিক অনাচারের ভয় থাকলে সবার মতেই মুখ ঢেকে রাখা ফরজ।।

এখানে মনে রাখা দরকার যে, এ মতবিরােধ শুধু মুখ ও হাতের বিষয়ে। মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত শরীরের বাকী অংশ আবৃত করা যে মেয়েদের জন্য ফরজ সে বিষয়ে। সকল ইমাম, আলিম ও মুসলিম উম্মাহ একমত।

মহান আল্লাহ কুরআন করীমে এরশাদ করেছেন:

“হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, আপনার কন্যাদেরকে ও মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয় । এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে কষ্ট প্রদান করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।” (সূরা আহযাব ৫৯ আয়াত)।

উপরের আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস (রা) বলেছেন:

“أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من فوق رؤوسهن بالجلابيب، ويبدين عينة واحدة”

“এখানে আল্লাহ মুমিন নারীগণকে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন প্রয়ােজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে নিজেদের চাদর দিয়ে নিজেদের মাথা ও মুখমন্ডল ঢেকে নেয়, শুধুমাত্র একটা চোখ তারা বাইরে রাখবে।” (তাফসীরে তাবরী ২২খণ্ড ৪৬ পৃ) | এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, বেগানা পুরুষদের থেকে মুখ ঢেকে রাখাও আল্লাহর নির্দেশ । আল্লাহ আরাে বলেছেনঃ

واذا سألتموهن متاعا فاسألوهن من وراء حجاب لكم أطهر لقلوبكم ولوبهن”

“তােমরা যদি তাঁদের (নবী-পত্নীদের) নিকট থেকে কোন কিছু চাও তাহলে পর্দার আড়াল থেকে তা চাইবে । এ বিধান তােমাদের এবং তাঁদের অন্তরকে। অধিকতর পবিত্র রাখবে।” (সূরা আহযাব ৫৩ আয়াত)

এই আয়াতে পুরুষদের থেকে নারীদের সম্পূর্ণ পর্দা করার ও আড়ালে থাকার সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। এখানে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে পর্দার এই বিধান নারী পুরুষ সবার অন্তরকে অধিকতর পবিত্র রাখে এবং অশ্লিলতা ও তার কারণাদি থেকে

তাদেরকে দুরে রাখে। এথেকে বােঝা যায় যে পর্দা পালন পবিত্রতা এবং নিরাপত্তা, আর পর্দাহীনতা অপবিত্রতা ও অশীলতা ।

অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন:

বৃদ্ধারা যারা বিবাহের কোন আশা রাখেনা, তাদের জন্য এটা অপরাধ হবেনা যে তারা সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের পােষাক খুলে রাখবে । তবে তা থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম । আল্লাহ সবকিছু শােনেন সবকিছু জানেন।” (সূরা নূর: ৬০ আয়াত)।

এ আয়াতে আল্লাহ জানিয়েছেন যে, যৌন অনুভুতি রহিতা বৃদ্ধাদের জন্য যাদের বিবাহের কোন আশা নেই তাদেরও পর্দা করা প্রয়ােজন। তবে তাঁরা তাদের ঘােমটা জাতীয় কাপড় খুলে রাখলে অপরাধ হবে না, যদি তাদের উদ্দেশ্য সৌন্দর্য্য পদর্শন করা না হয় । এর দ্বারা বােঝা গেল যে বৃদ্ধাদের জন্যও সৌন্দর্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মুখ, হাত বা অন্য কোন স্থান থেকে কাপড় সরানাে জায়েজ হবে না, বরং তা অপরাধ ও পাপ বলে গণ্য হবে । অতএব যদি যুবতী বা অল্পবয়স্ক মেয়েরা তাদের। মুখ, হাত, মাথা, কাঁধ ইত্যাদি খােলা রেখে তাদরে রূপ যৌবনের প্রদর্শনী করেন। তাহলে তা কত বড় অপরাধ হবে তা সহজেই অনুমেয়।

এখানে লক্ষ্যনীয় যে, আল্লাহ বৃদ্ধাদের বহিবাস খােলার অনুমতি দিয়েছেন এই শর্তে যে তাদের মনে বিবাহের বা সংসার জীবনের বা যৌন জীবনের কোন আগ্রহই থাকবেনা । কারণ এ ধরনের বাসনা কোন মহিলার মনে থাকলে তিনি। সাজগােজের মাধ্যমে নিজেকে আকর্ষণীয় করতে সচেষ্ট হবেন, আর সেক্ষেত্রে তার জন্য পর্দার সামান্য শিথিলতাও নিষিদ্ধ।

সব শেষে আল্লাহ এধরনের অতিবৃদ্ধাদেরকেও পূর্ণ পর্দা পালনে উৎসাহ দিয়েছেন, এতে পর্দার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। অতিবৃদ্ধাদেরে জন্য যদি পুর্ণাঙ্গ পার্দা পালন উত্তম হয় তাহেল যুবতীদের জন্য পুর্ণাঙ্গ পর্দা পালন করা এবং নিজেদের সৌন্দর্য আবৃত করে রাখা যে কতবেশী গুরুত্বপুর্ণ তা সহজেই অনুমেয় । পুর্ণ পর্দা পালন তাদেরকে সকল অন্যায়, অশ্লীলতা ও অবক্ষয় থেকে রক্ষা করবে ।

যে সকল আলেম ও ইমাম নিরাভরণ ও প্রসাধনহীন মুখ ও হাত অনাবৃত রাখা জায়েজ বলেছেন তাঁদের দলিলের মধ্যে রয়েছে সুনানে আবি দাউদে বর্ণিত একটি

১৩ হাদীস, যাতে আয়েশা (রা) বলেছেন, তাঁর বােন আসমা বিনতি আবু বকর (রা) রাসূলুলাহ (ছ)-এর ঘরে প্রবেশ করেন, তখন রাসূলুলাহ () বলেন:

ايا أسماء إن المرأة إذا بلغت المحيض لم تصلح أن يرى منها إلا هذا وهذا وأشار إلى وجهه وكفيه”

“হে আসমা মেয়েরা সাবালিকা হবার পর তাদের মুখমণ্ডল ও কজি পর্যন্ত হাত ছাড়া আর কিছু দেখানাে জায়েজ নয়।”

হাদীসের সনদ বিচারে এ হাদীসের উপর নির্ভর করা যায় না; কারণ এটি একটি দুর্বল সনদের হাদীস, মােটেও নির্ভরযােগ্য নয় । রাসূলুলাহ (%)-এর বাণী হিসেবে একে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। ইমাম আবু দাউদ এ হাদীসটি বর্ণনা করার পরে এর দুর্বলতা ও অনির্ভরযােগ্যতা বর্ণনা করেছেন।

| এ বিষয়ে উলামায়ে কেরাম তফসীর, হাদীস ও ফিকহের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত আলােচনা করেছেন। বিস্তারিত আলােচনার জন্য আহকামুল কুরআন লিল-জাস্সাস ৩য় খণ্ড ৩১৫-৩১৬ পৃ:, তাফসীরে তাবারী ১৮ খণ্ড ১১৭-১২০ পৃ:, তাফসীরে ইবনে। কাসরি ৩য় খণ্ড ২৭৪, আল জামিয় লি আহকামিল কুরআন ১২ খণ্ড ২২৮-২২৯ পৃ:, হেদায়া ৪র্থ খণ্ড ৩৬৮ পৃ:, ইবনুল হুমামের ফাতহুল কাদীর ১০ খণ্ড ২৮-২৯পৃ:, শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানীর জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমা, শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাযের মাসাইলুল হিজাব ওয়াস সুফুর ইত্যাদি গ্রন্থ দেখুন ।

এ পুস্তিকার ক্ষুদ্র পরিসরে বিস্তারিত আলােচনা করা সম্ভব নয়, সাধারণ পাঠক-পাঠিকার জন্য তা বিশেষ প্রয়ােজনীয়ও নয় । এখানে সংক্ষেপে বিষয়টির আলােচনার মাধ্যমে আমরা অনুভব করতে পারছি যে, মাহরম নয় এমন সকল অনাত্মীয় পুরুষের সামনে মুখ ঢেকে রাখা সকল মুসলিম মহিলার উচিৎ।

তাছাড়া আমরা বুঝতে পারছি যে, শুধুমাত্র মুখ ও হাত ছাড়া শরীরের বাকী। সকল অংশ মাহরাম অীয় নয় এমন পুরুষদের সামনে পুরােপুরি ঢেকে রাখা প্রতিটি মুসলিম নারীর জন্য ফরজ। কাজেই কোন মুসলিম নারীই উচিৎ নয় আল্লাহর নির্দেশের অবাধ্যতার মাধ্যমে নিজের জীবনের বরকত কল্যাণের উৎসকে নষ্ট করে দেওয়া। বিশেষত: যখন আমর দেখি যে, আল্লাহর নির্দেশের বিরােধিতা আমরা করছি বিনা প্রয়ােজনে। শুধুমাত্র শয়তানের প্ররােচনায় বা অমুসলিম বা খােদাদ্রোহী মহিলদের দেখাদেখি অনুকরণ প্রবনতার কারণে ।

শালীন পােষাকে শরীর আবৃত করার কারণে কোন মুসলিম মহিলার

জাগতিক কোন স্বার্থের ক্ষতি হয় না, তার কোন কর্ম বা প্রয়ােজন ব্যাহত হয় না বা তার সামাজিক বা পারিবারিক কোন মর্যাদার ক্ষতি হয় না। বরং তিনি অতিরিক্ত সম্মান ভােগ করার সাথে সাথে আল্লাহর অফুরন্ত দয়া, কল্যাণ ও বরকত লাভে সক্ষম হন।

উপরে উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ের শেষে আল্লাহ বলেছেন যে, দৃষ্টিসংযম করা, পর্দা পালন করা ও লজ্জাস্থানের হিফাজত করা দুনিয়া ও আখেরাতের পবিত্রতা ও সফলতা অর্জনের উপায় । এ থেকে দূরে সরে গেলে ধ্বংস ও শাস্তি অনিবার্য। আলাহ আমাদেরকে সফলতার পথে চলার তৌফিক দান করুন এবং ধবংসের পথ থেকে আমাদের দূরে রাখুন। আমিন।

আয়াতদ্বয়ের শেষে আল্লাহ বলেছেন, মানুষ যা কিছু করে তা সবই তিনি জানেন, তাঁর কাছে কিছুই গােপনীয় নয়। এতে মুমিনদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তাঁরা যেন এমন কোন কর্ম না করেন যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন, আর আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এমন কোন কর্ম পালনে যেন তারা অবহেলা না করেন। কারণ আল্লাহ তাদের দেখতে পান, তাদের সকল ভালমন্দ কর্ম সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন ।

অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন:

التعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور”.

| “চক্ষুর গােপন চাউনি ও অন্তরে যা গােপন আছে তা তিনি জানেন।” (সূরা মুমিন ১৯ আয়াত)

অন্য আয়াতে তিনি বলেছেন:

وما تكون في شأن وما تلو منه من قرآن ولا تعملون من عمل إلا مما عليكم شهودا إذ تفيضون فيه”.

“তুমি যে কোন কর্মে রত হও ,তৎস র্কে কুরআন থেকে যা কিছু আবৃত্তি কর এবং তােমরা যে কাৰ্যই কর সবকিছুতেই আমি তােমাদের পরিদর্শক যখন তােমরা তাতে প্রবৃত্ত হও।” (সূরা ইউনুস ৬১ আয়াত)

| বান্দার উপর তাে এটাই দায়িত্ব যে, সে তার প্রভুকে ভয় করে চলবে, তার মনে সর্বদা এই লজ্জা থাকবে যে ,তার প্রভু যেন তাকে কোন অন্যায় কাজে লিপ্ত দেখতে না পান, অথবা তাঁর নির্দেশিত দায়িত্ব পালন থেকে তাকে যেন দূরে না দেখেন ।।

দ্বিতীয় মূলনীতি: পােশাক ঢিলেঢালা ও স্বাভাবিক কাপড়ের হবে

ইসলামী হেজাব বা পর্দার ১ম দিক যে, তা মেয়েদের সর্বাঙ্গ আবৃত করে রাখে, যা আমরা এতক্ষণ আলােচনা করেছি। মুসলিম মহিলার পােষাকের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট যে, তা ঢিলেঢালা ও স্বাভাবিক কাপড়ের হবে, পাতলা বা আঁটসাট পােষাক পরিধান মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম । রাসূলুলাহ () বলেছেন:

گاسية في الدنيا عارية في الآخرة”

از

“দুনিয়ার অনেক সুবসনা সজ্জিতা নারী আখেরাতে বসনহীনা(বলে বিবেচিত) হবে।” (সহীহ বােখারী, মুয়াত্তা, তিরমিযি ।)।

তিনি আরাে বলেছেন ।

“صنفان من أهل الار لم أرهما قوم معهم سياط كأذناب البقر يضربون بها الناس ونساء كاسيات عاريات مميلات مائلات ژئوسهن كأسنمة البخت المائلة لا يدخلن الجنة ولا يجدن ريحها وإن ريحها ليوجد من مسيرة كذا وكذا”.

“দুইশ্রেণীর দোজখবাসীকে আমি দেখিনি। (অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে সমাজে এদের দেখা যাবে ।) এক শ্রেণী হল ঐ সকল পুরুষ যারা সমাজে দাপট দেখিয়ে চলে, তাদের হাতে থাকে বাঁকানাে লাঠি বা আঘাত করার মত হাতিয়ার, যা দিয়ে তারা মানুষদেরকে মারধাের করে বা কষ্ট দেয় । দ্বিতীয় শ্রেণীর দোজখবাসী হল ঐ সকল নারী যারা পােষাক পরিহিতা হয়েও উলঙ্গ, যারা পথচ্যুত এবং অন্যদেরকে পথচ্যুত করবে, এদের মাথা হবে উটের পিঠের মত ঢং করে বাঁকানাে, এরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এমনকি জান্নাতের খুশবুও তারা পাবে না, যদিও জান্নাতের খুসবু অনেক অনেক দLর থেকেও পাওয়া যায় । (সহীহ মুসলিমমুসনাদে আহমদ)।

এ হাদীসদ্বয়ের আলােকে একথা স্পষ্ট যে পাতলা বা আঁটসাট পােষাক পরিধান করা উলঙ্গতা ভিন্ন কিছুই নয় । এখানে যেমন পর্দা পালনে অবহেলা করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে তেমনি মানুষদেরকে কষ্ট দেয়া জুলুম করা থেকে কঠিনভাবে সাবধান করা হেয়ছে। এদুটি আচরণ সমাজকে কলুষিত করে, মানব সমাজকে পাশবিকতায় ভরে তােলে, তাই এর জন্য রয়েছে কঠিনতম শাস্তি। তৃতীয় মূলনীতি: অমুসলিমদের অনুকরণ নিষিদ্ধ।

মুসলিম মহিলার পােষাকের ৩য় বৈশিষ্ট হলাে যে তা স্বকীয়তা ও নিজস্ব কৃষ্টিসভ্যতার ছাপ বহন করে । মুসলিম মেয়েরা অমুসলিম মেয়েদের ফ্যাশনের অনুকরণ করে পােষাক পরবেন না ।

কঠিন সামাজিক ব্যাধিগুলাের অন্যতম হলাে মুসলিম মহিলাদের মধ্যে

অমুসলিম-কাফির মহিলাদের অনুকরণের প্রবণতা। অনেক মুসলিম মহিলা অমুসলিমদের মত সংক্ষিপ্ত ও পাতলা পােষাক পরিধান করেন এবং তাদের মত ফ্যাশন ও সৌন্দর্য প্রদর্শনীতে লিপ্ত হন । অথচ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

من تشبه بقوم فهو منهم”

“যে ব্যক্তি যে সম্Lদায়ের অনুকরণ করবে সে সেই সাদয়ের অন্তুভুক্ত বলে গণ্য হবে।” (আবু দাউদ, তাবরানী)

একারণে মুসলিম মহিলাদের জন্য অমুসলিম মহিলাদের মত পােষাক বা সাজ সজ্জা সম্পূর্ণ হারাম। অনুরূপভাবে মুসলিম নামধারী হয়েও যে সকল মহিলা আলাহর বিধান অমান্য করেন তাঁদের অনুকরণও হারাম । ছােট মেয়েদের ক্ষেত্রেও এব্যাপারে। ঢিলেমি জায়েজ নয়। কারণ তাদেরকে ছােট থেকে অমুসলিমদের বা ইসলাম অমান্যকারীদের অনুকরণ করতে ও তাদের মত পােষাক পরতে অভ্যস্ত করলে তারা বড় হয়ে এর বিপরীত অন্য সব পােষাক ঘৃণা করবে । ফলে সুদুর প্রসারী সামাজিক অবক্ষয় ও সমস্যা সৃষ্টি হবে । চতুর্থ মূলনীতি: মহিলারা পুরুষদের পােষাক পরবেন না।

| মুসলিম মহিলার পােষাকের আরেক বৈশিষ্ট হলাে পুরুষের ও মেয়েদের পােষাকের ভিন্নতা। পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট পােষাক ব্যবহার করা মেয়েদের জন্য হারাম। রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম-বলেছেন:

ليس منا من تشبه بالرجال من النساء ولا من تشبه بالنساء من الرجال”.

“যে সকল মহিলা পুরুষের অনুকরণ করে এবং যে সকল পুরুষ মহিলাদের অনুকরণ করে তারা মুসলিম উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (মুসনাদে আহমদ ,তারীখে বােখারী)

অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

لنيسة المرأة والمرأة تلبس لبسة الرجل

لعن رسول الله لا الرجل يل

“যে সকল মহিলা পুরুষদের পােষাক পরে এবং যে সকল পুরুষ মহিলাদের পােষাক পরে তাদেরকে রাসূলুলাহ () অভিশাপ দিয়েছেন।” (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসতাদরাকে হাকেম, মুসনাদে আহমদ) দ্বিতীয়ত: বহিরাগমণ ও মেলামেশার শালীনতা।

আমরা বলেছি যে, ইসলামের হিজাব বা পর্দা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক রয়েছে যা

একে অপরের সম্পূরক এবং সবকিছুর সমন্বয় একটি পূর্ণাঙ্গ পবিত্র, শালীনতাপূর্ণ ও সুরুচিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করে। আমরা এ পুস্তিকায় শুধু পােষাক ও সামাজিক মেলামেশার বিষয় আলােচনা করব । এতক্ষণ আমরা মুসলিম নারীর পােষাকের বৈশিষ্টগুলাে আলােচনা করেছি। এবার মহিলাদের বহির্গমন ও সামাজিকতার দিকটি আলােচনা করব ।

  • ক) মহিলারা সুগন্ধ মেখে হয়ে বাইরে যাবেন না।

মুসলিম মহিলাদের জন্য পােষাকে বা শরীরে সুগন্ধি, সেন্ট বা আতর মেখে বাইরে রেরােনাে নিষিদ্ধ। রাসূলুলাহ (সা) বলেছেন।

أيما امرأة استعطرت فمرت لى قوم ليجدوا من ريحها فهي زانية

“যদি কোন মহিলা সুগন্ধি মেখে মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে, যেন মানুষেরা তার সুগন্ধ অনুভব করে তাহলে সেই মহিলা ব্যভিচারিণী বলে গণ্য হবে।” (সহীহ ইবনে খুযাইমা, সহীহ ইবনে হিব্বান, নাসাঈ, আবু দাউদ, তিরমিযি, হাকেম, মুসনাদে আহমদ)।

তিনি আরাে বলেছেনঃ

إذا خرجت المرأة إلى المجير فلتغسيل من الطيب كما تغتسل من الجنابة

“যখন কোন মহিলা মসজিদে (নামাজের জন্য) যায়, তখন যেন সে তার (শরীরের বা পােষাকের) সুগন্ধি এমনভাবে ধুয়ে ফেলে, যেন সে নাপাকি থেকে গােছল করছে।“ (নাসাঈ)

অন্য হাদীসে তিনি বলেন:

طيبة”

إذا خرجت إحداكن إلى المجير فلا تفتر

“যদি কোন মহিলা মসজিদে (নামাযে) যাওয়ার জন্য বাহির হয়, সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে।” (সহীহ মুসলিম, আবু উওয়ানা)।

  • খ) নারী-পুরুষের একত্র হওয়া বা ভ্রমণ

ইসলামে হিজাব বা পর্দার অর্থ শুধু ঘরের বাইরে যেতে হলে মেয়েদের পুরাে শরীর ঢেকে রাখাই নয় । বরং পর্দার অর্থ হলাে অবক্ষয় ও কলুষতা প্রসার করতে পারে এমন সকল কর্ম ও আচরণ থেকে বিরত থাকা । এজন্য ঘরের মধ্যেও মাহরাম বা নিকটতম আত্মীয় ছাড়া অন্য সবার থেকে পর্দা করতে হবে, নিকটতম আত্মীয় ছাড়া অন্য কারাে সাথে একত্রে একাকী অবস্থান বা চলা ফেলা করা যাবে না । রাসূলুলাহ (সঃ) বলেছেনঃ-

‘মাহরাম নিকম্বীয়ের উপস্থিতি ছাড়া কোন পুরুষ কোন মেয়ের সাথে একান্তে বা একা থাকবে না, তেমনিভাবে মাহরাম নিকটাত্মীয়ের সঙ্গ ছাড়া কোন মেয়ে একা সফর করবে না ।“ (বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)

ألا لا يخلون رجل بامرأة إلا كان التيما الشيطان

“যখনই কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে একাকী অবস্থান করে তখনই শয়তান তাদের সঙ্গী হয় ।“ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

অন্য হাদীসে তিনি বলেছেনঃ- على التساء”، فقال رجل من الأنصار: یا رسول الله إياكم والدخول أفرأيت الحمو قال: “الحمو الموت”.

“তােমরা মেয়েদের কাছে যাতায়াত বা মেলামেশা অবশ্যই পরিহার করবে।“ আনসারদের মধ্যথেকে একব্যক্তি প্রশ্ন করল: হে আল্লাহর রাসূল: দেবর-ভাসুর বা শ্বশুরবাড়ীর পুরুষদের জন্য ভাবীর সাথে দেখাসাক্ষাৎ বা মেলামেশার বিষয়ে আপনার মতামত কি? তিনি উত্তরে বলেন: “দেবর-ভাসুর মৃত্যু সমতুল্য।” (অর্থাৎ মৃত্যুকে যেভাবে এড়িয়ে চলতে চাও ঠিক সেভাবে এদেরকে এড়িয়ে চলবে । এদের সাথে পর্দার বাইরে দেখাসাক্ষাৎ বা কথাবার্তা মৃত্যুর মতই ভয়ঙ্কর ।) (তিরমিজী)

এসকল হাদীসের আলােকে স্বামীর ভাই বা অন্যান্য আত্মীয়, মহিলার নিজের ভগ্নিপতি, চাচাতাে ভাই, খালাতাে ভাই, ফুফাতাে ভাই, বা এ ধরণের দুরবর্তী আত্মীয়দের থেকে পূর্ণ পর্দা করা, তাদের সাথে একত্রে অবস্থান বা চলা ফেরা না করার গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা আমরা বুঝতে পারছি। পর্দার এসকল দিকে অবহেলা যেমন আখেরাতে ভয়ানক শাস্তির কারণ, তেমনি পার্থিব জীবনে অবক্ষয়, অবনতি, কলুষতা প্রসারের অন্যতম কারণ। আলাহ ও তাঁর রাসূলের (ই) সকল নির্দেশ পূর্ণভাবে পালনের মধ্যেই রয়েছে মুসলমানদের পরকালীন মুক্তি ও পার্থিব জীবনের উন্নতি এবং সফলতা ।। নারী সমাজের প্রতি পুরুষদের দায়িত্ব

আমরা এতক্ষণে মুসলিম মেয়েদের পােষাক, বহিরাগমন ও সামাজিক চলাফেরা মেলামেশা সম্পর্কে মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয়তম রাসূল মুহাম্মাদ -এর নির্দেশাবলী জানতে পারলাম। এ সকল নির্দেশ পালন করা যেমন সকল মুসলিম

নারীর উপর অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব, তেমনি সমাজের পুরুষদের দায়িত্ব হলাে আলাহর পথে চলতে তাঁদেরকে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করা । বস্তুত: পর্দার বিধান পালন করা যেমন মেয়েদের উপর দায়িত্ব, তেমনি পুরুষদের উপরও দায়িত্ব। উপরন্তু পুরুষদের উপর দায়িত্ব হলাে, মেয়েদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করা । যদি মেয়েরা পর্দা পালন না করেন আর পুরুষেরা চুপ থাকেন তাহলে তাঁরাও সমান পাপী হবেন এবং আলাহর শাস্তির মুখােমুখি হবেন ।

| নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে মানব সমাজ। নারীদের সংস্কার ও পবিত্রতা ব্যতিরেকে সামাজিক পবিত্রতা অর্জন অসম্ভব । আর তাদের পবিত্র জীবন যাপনের ক্ষেত্রে পুরুষদের দায়িত্ব অপরিসীম। কারণ পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে পুরুষেরা মেয়েদের মনমানসিকতা ও চালচলন শুধু প্রভাবিতই করে না বরং নিয়ন্ত্রিত করে । বিভিন্ন যগে ও সমাজে পুরুষেরা নিজেদের কামনা ও অভিরুচি চরিতার্থ করতে মেয়েদেরকে শালীনতার বাইরে বেরােতে উৎসাহিত করেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে, ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পঙ্কিলতা ও অশ্লীলতা ।

বস্তুতঃ নারীর প্রতি পুরুষের এ দায়িত্ব এক কঠিন পরীক্ষা। সামাজিক পবিত্রতা ও মানব জাতির স্থায়ী কল্যাণের জন্য যিনি নিজের কামনা-বাসনাকে দুরে ঠেলে দিয়ে নারীজাতিকে শালীনতা ও পবিত্রতার পথে উৎসাহিত করতে পারলেন তিনিই এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। মহানবী সালালাহু আলাইহি ওয়া সালামবলেছেন ঃ

“ما تركت بعدي فتنة أضر على الرجال من النساء”

“পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে ক্ষতিকর ও কষ্টকর কোন পরীক্ষা আমি রেখে। যাচ্ছি না।” (বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য) | অন্য হাদীসে তিনি বলেছেন ।

إن النيا حلوة خضرة وان الله مستخلفكم فيها فينظر كيف تعملون فاوا الدنيا واتقوا النساء فإن أول فتنة بني إسرائيل كانت في السماء”.

“এই দুনিয়া সুন্দর শ্যামল আবাসস্থল, আল্লাহ তােমাদেরকে এখানে স্থলাভিষিক্ত করে পাঠিয়েছেন, তােমরা কে কি কর্ম কর তা তিনি দেখবেন । অতএব তােমরা পার্থিব জীবনের প্রলােভন থেকে এবং নারীঘটিত প্রলােভন থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করবে; (কারণ এপথেই সমাজের অবক্ষয় নেমে আসে ।) যেমন ইহুদীদের মধ্যে প্রথম অশান্তি ও অবক্ষয় এসেছিল নারীঘটিত কারণে।” (সহীহ

মুসলিম, তিরমিজী, আহমদ)।

| আমাদের সবার উপর দায়িত্ব হলাে মেয়েদেরকে পর্দা পালনে উৎসাহিত করা, পর্দাহীনতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা । পদাহীনতা, বেহায়াপনা বা সেচছাচারিতার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। ন্যায় ও সত্যের পথে চলতে এবং তার উপর ধৈর্য ধারণ করতে একে অপরকে উপদেশ পরামর্শ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে আল্লাহ সবাইকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং কর্ম অনুসারে প্রতিফল প্রদান। করবেন ।

| মুসলমানদের দায়িত্ব যে, তাঁরা নিজেরা আল্লাহকে ভয় করে তাঁর নির্দেশিত পথে চলবেন, উপরন্তু সামজের অন্য সকলকে, বিশেষত নিজেদের অধীনস্থদের আল্লাহর পথে পরিচালিত করবেন। এভাবে আল্লাহর গজব থেকে কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবেন তাঁরা। রাসূলুলাহ (স) বলেন:

إذا رأوا المنكر لا يغيژوئه أوشك أن يعمهم الله بعقابه”

الناس

“যখন মানুষেরা অন্যায় দেখেও তা পরিবর্তন বা সংশােধন করবে না তখন যে কোন সময়ে আলাহর শাস্তি তাদের সবাইকে গ্রাস করবে।’ (তিরমিজী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)

তিনি আরাে বলেন:

ইসরাঈল সন্তানদের (ইহুদী জাতির) মধ্যে সর্বপ্রথম দুর্বলতা আসলাে এভাবে যে, তাদের সমাজের একজন অপরজনকে (অন্যায় কাজে জড়িত) দেখলে বলত: আপনি আল্লাহকে ভয় করুন এবং যা করছেন তা পরিত্যাগ করুন, একাজ আপনার জন্য বৈধ্য নয়। এরপর পরদিন তাকে দেখত, তার (খারাপ লােকটির) অন্যায় তাকে

(ভাল বা সৎ লােকটিকে) তার সাথে সামাজিক সম্পর্ক রাখতে বাধা দিত না ।। অন্যায়ে জড়িত থাকা সত্ত্বেও সে তার সাথে একত্রে উঠাবসা, খাওয়া-দাওয়া ও সামাজিকতা করত । যখন তারা এরূপ করতে লাগল, তখন আল্লাহ তাদের সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য নষ্ট করে দেন, তাদের মধ্যে বিভেদ, কলহ ও বৈরীতা সৃষ্টি করে। দেন।“

| একথা বলার পরে রাসূলুলাহ ঃ কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করেন: “ইসরাঈল সন্তানদের মধ্য থেকে যারা কুফরী করেছিল তারা দাউদ ও মরিয়ম পুত্র। ঈসা কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল, একারণে যে তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমা লঙ্ঘন করেছিল। তাদের মধ্যে সংঘটিত অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে তারা একে অপরকে নিষেধ করত না। তাদের এই আচরণ ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট।” (সূরা মায়িদা ঃ ৭৮-৭৯ আয়াত)।

| আয়াত পাঠ শেষে রাসূলুলাহ ও আবার বলেন: “মহান আল্লাহর কসম করে বলছি, তােমরা অবশ্যই সকর্মের আদেশ করবে, অন্যায় থেকে নিষেধ করবে, অন্যায়কারী বা অত্যাচারীকে হাতধরে বাধা দান করবে, তাকে সঠিক পথে ফিরে আসতে বাধ্য করবে এবং তাকে ন্যয় ও সত্যের মধ্যে থাকতে বাধ্য করবে। যদি তােমরা তা না কর তাহলে আল্লাহ তােমাদের মধ্যে পরস্পর বিরােধিতা ও শত্রতা সৃষ্টি করে দেবেন এবং তােমা দেরকে অভিশপ্ত করবেন যেমন ইসরাঈল সন্তানদেরকে অভিশপ্ত করেছিলেন।” (তিরমিজী, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)।

তিনি আরাে বলেছেন:

“যার হাতে আমার জীবন সেই মহান আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, তােমরা অবশ্যই সাকর্মের আদেশ করবে, অন্যায় থেকে নিষেধ করবে, তা নাহলে আল্লাহ অচিরেই তােমাদের সবার উপর তাঁর গজব ও শাস্Lি পাঠাবেন, যে শাস্ি ভাল-মন্দ সকল মানুষকে গ্রাস করবে, তারপর তােমরা আল্লাহকে ডাকবে, কিন্তু তিনি তােমাদের ডাকে সাড়া দিবেন না, তােমাদের দোয়া কবুল করবেন না।“ (তিরমিজী)

অন্য হাদীসে রাসূলুলাহ (E) বলেন:

“তােমাদের কেউ যদি কোন অন্যায় দেখতে পায় তবে সে তাকে তার বাহুবল দিয়ে পরিবর্তন করবে । যদি তাতে সক্ষম না হয় তাহলে সে তার বক্তব্যের মাধ্যমে তা পবিবর্তন করবে। এতেও যদি সক্ষম না হয় তাহলে সে তার অন্তর দিয়ে তার পরিবর্তন (কামনা) করবে, আর এটাই হলাে ঈমানের দুর্বলতম পর্যায় । (মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)।

শাসকগােষ্ঠী, প্রশাসনের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ, আঞ্চলিক প্রশাসকগণ, বিচারকগণ, আলেমগণ, শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীগণ ও সমাজের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দায়িত্ব এসকল বিষয়ে অন্যদের চেয়ে বেশী, তাদের জন্য আশংকাও বেশি। তাদের মধ্যে কেউ যদি দায়িত্ব পালন না করে নিশ্ৰুপ থাকেন তবে তার পরিণতি হবে কঠিন ও ভয়াবহ।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে অন্যায় ও অসৎকর্মের প্রতিবাদ করা শুধুমাত্র এদেরই দায়িত্ব। বরং তা সকল মুসলমানের দায়িত্ব। মেয়েদের অভিভাবকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশী। তাদেরকে এ ব্যাপারে খুবই কড়াকড়ি করতে হবে। যারা এবিষয়ে ঢিলেমি করেন তাদের সাথেও কড়াকড়ি করতে হবে। রাসূলুলাহ () বলেছেন:

“আল্লাহ আমার আগে যখনই কোন নবী প্রেরণ করেছেন, তাঁর উম্মতদের মধ্য থেকে কিছু লােক তার একনিষ্ঠ সাহায্যকারী ও সঙ্গী হয়েছেন, যারা তার সুন্নাত আঁকড়ে ধরেছেন এবং তার নির্দেশ মত চলেছেন। পরবর্তীকালে তাদের মধ্যে এমন সব লােক দেখা দেয় যারা মুখে যা বলে কর্মে তা করে না, আর যে সকল কাজ তাদেরকে করতে বলা হয়নি সে সকল কাজ তারা করে । (মুমিনদের দায়িত্ব হলাে সর্বশক্তি দিয়ে এধরণের লােকদের প্রতিরােধ করা ।) যে ব্যক্তি বাহুবল দিয়ে তাদের সাথে যথাশক্তি বিরােধিতা করবে সে মুমিন, যে ব্যক্তি বাকশক্তি ও বক্তব্যর মাধ্যমে যথাশক্তি এদের বিরােধিতা করবে সেও মুমিন। যে ব্যক্তি অন্তর দিয়ে যথাশক্তি

তাদের বিরােধিতা করবে সেও মুমিন। এর বাইরে আর শরিসার দানা পরিমাণ। ঈমানও নেই।” (মুসলিম, মুসনাদে আহমদ ।)

এ হাদীসের আলােকে আমরা বুঝতে পারছি যারা পর্দার ব্যাপারে ঢিলেমি করেন তাদের সাথে কড়াকড়ি করা ও তাদের বিরদ্ধে যথাসাধ্য শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।

| প্রার্থনা করি, আল্লাহ আমাদেরকে সকল মুসলিমকে সে সকল কর্ম করার তৌফিক দান করেন যে সকল কর্মে দেশ, জাতি ও সকল মানুষের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও প্রার্থনা কবুলকারী । তিনিই আমাদের একমাত্র সহায়ক ও অবলম্বন ।

সম্মানিত পাঠক-পাঠিকা,

অনুধাবনের অভাব অথবা ইসলাম বিরােধী প্রচারণার ফলে আমাদের অনেকের কাছে হয়ত মনে হবে, পর্দা করলে মেয়েদের কষ্ট হয় বা তা একটি বাড়তি বােঝা, অথবা পর্দা হয়ত আধুনিক সভ্যতা বা সভ্য মানসিকতার সাথে খাপ খায় না । অথচ আমেরিকায়, ইউরােপে, আফ্রিকায় ও এশিয়ার বিভিন্ন অমুসলিম দেশের অসংখ্য মহিলা প্রতি বৎসর ইসলাম গ্রহণ করছেন এবং সেচছায় পাশ্চাত্যের তথাকথিত স্বাধীনতা ও সেচছাচারিতা ছেড়ে ইসলামের পর্দা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন । সকল পরিসংখানে আমরা দেখতে পাই যে, বিভিন্ন অমুসলিম দেশে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের হার বেশী । পর্দা যদি বােঝা হবে অথবা আধুনিক সভ্যতার পরিপন্থী হবে তাহলে কেন তাঁরা সেচছায় তা গ্রহণ করছেন?

আসুন আমরা এধরণের একজন মহিলার অকথা পড়ি, সত্যের আহ্বানে যার অন্তর সাড়া দিয়েছিল, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং পর্দা করেছেন। ইসলামী হিজাব বা পর্দা সম্পর্কে তাঁর মনের অনুভুতি কি ছিল তা জানার চেষ্টা করি।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Porboi.com
Logo
Register New Account
Reset Password
Shopping cart